কলাপাড়ায় কৃষকরা গোলের রস সংগ্রহে ব্যস্ত

0
15

উত্তম কুমার হাত্তলাদার,কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে কাক ডাকা ভোরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শতাধিক কৃষক প্রতিদিন ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ে গোলের রস সংগ্রহ করতে। এর পর বাড়ির উঠানে বসে শুরু হয় রস দিয়ে গুড় তৈরী কাজ। আর সেই গুর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে ওইসব কৃষকরা। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাব জনিত কারণ ও প্রয়োজনীয় রক্ষনাবেক্ষন আর চাষাবাদের অভাবে ঐতিহ্যবাহী এ গোলগাছ এখন ক্রমশই ধ্বংস হতে বসেছে। এক সময় এ উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল ও নদীর তীরে প্রচুর গোলের বাগান দেখা যেতো। গাছের নাম গোল হলেও আকৃতি অনেকটা নারিকেল পাতার মতো। এর উচ্চতা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুটের বেশী। সাধারনত লবণাক্ত পলিযুক্ত মাটিতে ভাল জন্মায় বলে স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের গিয়ে দেখা গেছে সত্তরোর্দ্ধ বৃদ্ধা শিখা রানী হাওলাদার তাফালে খড়কুটা দিয়ে আগুন জ¦ালিয়ে ঢোঙ্গায় রস দিয়ে গুড় তৈরী করছে। তিনি বলেন, বাবারে বিয়ে পর থেকেই প্রতি বছর এই সময় রস জ¦াল দিতে হইছে। আগে বেশি ছিলো। এখন অনেক কমে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল সুন্দরবনসহ দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে গোলগাছ রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালি, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল, বরগুনার আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, ভোলা ও খুলনা জেলার বিস্তীর্ন এলাকাসহ চরাঞ্চলের গোলগাছ একধিক বাগান রয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এই জনপদের সর্বত্র রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন সহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরের ছাউনী হিসেবে গোলপাতা ব্যবহার করা হয়। এছাড়া শীত মৌসুমে গোলবাগানের মালিকরা এর রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করে থাকে। রস দিয়ে সুস্বাদু পায়েস তৈরি করা হয়। গোলের গুড় কৃমিনাশক বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সাথে আলাপ করলে তারা জনান, উপকূলীয় এলাকায় যে সকল গোলগাছের বাগান রয়েছে তা প্রকৃতির অশেষ দান। বনবিভাগের এক শ্রেনীর অসাধু বনকর্মিদের সহযোগিতায় বনদস্যুরা অবাধে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এ গোল বাগান গুলো ধ্বংস হতে বসেছে।

গোলগাছ চাষী নিঠুর হাওলাদার জানান, গোলগাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক, সহজসাধ্য এবং ব্যয়ও খুব কম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয়না। এতে কোন পরিচর্যা করতে হয়না।
একইএলাকার অমল ঘরামি জানান, শুধু মাত্র গোলগাছের বীজ (গাবনা) সংরক্ষন করে তা নিচু জমিতে পুতে রাখলেই চারা গজায়। এর এক একটি ছড়ায় একশ থেকে দেড়শ টি বীজ থাকে। এতে ব্যয়ের চেয়ে আয় অনেক গুন বেশী। তবে এ বছর ছড়া থেকে রস অনেক কম বের হচ্ছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, গোলগাছ শুধু রস বা পাতা দেয় না, প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকেও উপকূল রক্ষা করে। গোলগাছ নিয়ে আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি। এবার নদীবেষ্টিত এলাকায় ত্রিশ হাজার গোল গাছ রোপনের জন্য সরকারের নির্দেশনা পেয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here