কাপ্তাই লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পটে ভ্রমণ

0
114

বিপ্লব তালুকদার . খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটিতে অবস্থিত লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট কাপ্তাইয়ের অন্যতম আকর্ষনীয় বিনোদন কেন্দ্র। অসংখ্য গাছ গাছালী, ছোট বড় পাহাড়ের সমাহার এবং পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে স্বচ্ছ জলে ভরা কাপ্তাই লেক। লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পটের যে দিকে দৃষ্টি যায় আনন্দে ভরে উঠে মন।

প্রায় ৩০ বছর ধরে নৌ বাহিনী এই লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট পরিচালনা করে আসছে। তবে ১৯৯৮ সাল থেকে এই বিনোদন কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে যে কোন নাগরিক এখানে এসে আনন্দ বিনোদন করতে পারেন। লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পটে বিনোদনের জন্য পৃথক পৃথক প্রায় ২০টি জায়গা রয়েছে। কিন্তু আমার সব কিছু দেখা সুযোগ হয়নি সময়ের কারণে আমার সাথে সফর সঙ্গী ছিলেন মুন্না থাকে নিয়ে আমার এখানে আসা।এখানে এস আমার অনেক ভালে লেগেছে লেকের মধ্যে ভাড়ায় চালিত বোট, প্যাডেল বোট ও স্পীড বোট দেখে তা ছাড়াও এখানকার সুন্দর মনোরম পরিবেশ দেখে লোভ সামলাতে না পেরে এখানকার পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এর সাথে নিজেকে ক্যামেরায় বন্ধী করে নিলাম।নিজের কোন ক্যামেরা না থাকার কারণে মুন্না মোবাইল ফোন দিয়ে নিজের ছবি গুলো ধারণ করে নিতে হলো ধন্যবাদ মুন্না আমাকে সহযোগীতা করার জন্য । এখানে অবশ্যয় আমরা বেশিক্ষণ ছিলাম তারপরও যতক্ষণ ছিলাম অনেক ভালো ছিলাম এই লেক প্যারাডাইস এর সাথে।

এই লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পটে রয়েছে ভাড়ায় চালিত বোট, প্যাডেল বোট ও স্পীড বোট। এর যে কোন একটিতে চড়ে কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ জলে নৌ বিহার করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও কাপ্তাই লেকে কায়াকিং করার সুবিধাও এখানে রয়েছে।

সর্বনিম্ন ৫০ জন থেকে শুরু করে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখানে একসাথে পিকনিক করতে পারবেন এখানে। শতাধিক বাস এবং বিপুল সংখ্যক প্রাইভেট কার, মাইক্রোসহ অন্য যে কোন যানবাহ এখানে নিরাপদে পার্কিং করার সুবিধা আছে। আবার ইচ্ছা করলে ছোট একটি স্পট নিয়েও এখানে পিকনিক করা যায়। পিকনিকে আগতরা ইচ্ছা করলে নিজেরাই এখানে রান্না করে খেতে পারেন। আবার লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট কর্তৃপক্ষকে রান্নার অর্ডারও দিতে পারেন। চাহিদানুযায়ী যে কোন ধরণের সুস্বাদু রান্না এবং আকর্ষনীয় প্যাকেটে খাবার সরবরাহ করা হয়। সকালের নাস্তা এবং দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহেরও সুবিধা এখানে পাওয়া যাবে। লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পটে রাত্রী যাপনের জন্য আকর্ষনীয় ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ‘বনকুটির’ নামক দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি কটেজ রয়েছে। সার্বক্ষনিক পানির ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি টোকাই ও অবাঞ্চিত লোকজনের প্রবেশ এখানে সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।

এরপর মোটর সাইকেল নিয়ে আমি আর মুন্না দুই জন চলে গেলাম প্রশান্তি পাক এর দিকে প্রশান্তি পার্ক ও শুটিং স্পটটি কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবস্থিত। আশপাশে সবুজ পাহাড় ও বিভিন্ন ধরনের গাছ ও বাগানসমৃদ্ধ পার্কটিতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ঘোরাঘুরি, অবসর সময় কাটানো, আড্ডা, পিকনিক ও পরিবার-পরিজন বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য উপযোগী পরিবেশ।

এখানে পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে তৈরি করা হয়েছে ফ্যামিলি কটেজ, জুমঘর, কিছু কাপল ও ব্যাচেলর রুম। এ ছাড়া রয়েছে তাঁবুতে ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা। এই পার্কটা কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবস্থিত হওযায় এর আশপাশের সৌন্দর্য আপনাকে মোহিত করবে যা আমাকে করেছে । এখানকার এন্ট্রি ফি মাত্র ১০ টাকা লেখা থাকলেও আমি আর মুন্না যখন এখানে প্রবেশ করলাম আমাদের কাছ থেকে কোন এন্ট্রি ফি নেওয়া হয়নি ।
এই পার্কের পাশে পাহাড়ের চুড়ায় একটা ওয়াচ টাওয়ার আছে যেখান থেকে পুরো কাপ্তাইয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
এখানে এসে দেখা হলো কয়েকজন ছোট ছেলে মেয়ের সাথে যারা স্কুল থেকে এসে বিকেল টাইম হলে এই পার্কের এসে আতা , বেল, কামরাঙ্গা, বাকুল বিক্রি করেন আর এই বিক্রি টাকা দিয়ে মা বাবা সংসারে জোগান দেন তারা সেই সাথে নিজেদের লেখা পড়া খরচও চালিয়ে নেন এর অংশ থেকে । আমার চোখে পড়ার সাথে সাথে তাদেরকে ডাকলাম আমি ওরা সবাই আমার ডাকের সারা দিয়ে সবাই আসলো একে একে আমি তাদের নাম জানতে চাইলাম খুব সুন্দর ভাবে তাদের নাম আমাকে বললো তাদের মধ্যে এক ছোট শিশু যার নাম কৃষ্ণ এই বয়সে নিজের জীবনের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন নিজেদের গাছের ফল আতা বিক্রি করে তার মধ্যে আরেজনের নাম সুমাইয়া আক্তার সিমু তারও একি অবস্থা কিছুই করার নেই যেহেতু গরীব ঘরে জন্ম তাদের যুদ্ধ তো করতেই হবে আমি তাদের সবার সফলতা কামনা করছি তারা যেন এই জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পারে।
তাদের কাছে আমার একটি ছোট আবদার ছিল শুধু একটি ছবি তোলা তারা কোন ভাবেই রাজি নন কারন আমি যদি তাদের ছবি গুলো ফেসবুকে ছেড়ে দিই টেলিভিশনে দিয়ে দিই এটা হলো তাদের ভয়। র্দীঘ অনেকক্ষণ কথা বলার পর তাদেরকে আমি বলি তোমাদের এই ছবি আমি কোথাও দেব না প্রমিজ এরপর তারা রাজি হয় আমার সাথে ছবি তুলতে এরপর আর কি মুন্নাকে বললাম তাড়াতাড়ি ছবিটা তুলে নেওয়ার জন্য এরপর ধারণ করে নিল তাই মোবাইল ফোনে শেষে আরকি তাদের সবাই থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম কাপ্তাই উপজেলার বিজিবি ওয়াগগা ছড়া জুন এই জুম রেস্তোরা এবং জুম পিকনিক স্পট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বিজিবি ।এখানে আমার সাথে ছিলেন আকাশ মহাজন এবং মুন্না মহাজন এই ওয়াগগা ছড়া জুম সত্যিই মনোমুগ্ধকর। একদিকে পাহাড় অন্যদিকে কর্ণফুলী নদী, নদীর ওপাড়ে ওয়াগগা ছড়া টি এস্টেট যা এই জুমকে খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। এখানে নিরাপদে থাকা, খাওয়া আনন্দ ভ্রমণ, পিকনিক পার্টি, বিবাহের আসরসহ যাবতীয় আনন্দ আয়োজন করা যায়।এর আগে গিয়েছিলাম চিং¤্রং বৌদ্ধ বিহারে আমি মুন্না , অপু, সঞ্জয়, তিশা, পাতা ও নিলয় ওয়াগগা ছড়া থেকে সিএনজি নিয়ে গেলাম চিং¤্রং এখান থেকে বোট ভাড়া করে কর্ণফুলী নদী পার হলাম ৫০টাকা দিয়ে এরপর মন্দিরে প্রবেশ করলাম এবং আমরা সবাই মোমবাতি জ্বালিয়ে মুল মন্দিরে ডুকলাম ভগবান বৌদ্ধকে দর্শন করলাম এর পর পুরো মন্দিরের এরিয়া ঘুরে দেখলাম সবাই অনেক সুন্দর নিরিবিলি জায়গা। এবার অনেক মজা করেছি আমরা সবাই আমার সাথে থাকা মুন্না , সঞ্জয়, তিশা, পাতা ও নিলয় তোদের সবাইকে খুব মিস করছি এই মুর্হুতে। চিং¤্রং এই মন্দিরটি অনেক ইতিহাস আছে সেই ইতিহাস গুলো আমার জানা নেই কিন্তু সে ইতিহাস গুলো জানার আমার খুব ইচ্ছা ছিল আশাপাশে কোন মানুষ না থাকার কারণে আমার কিছুই জানা হয়নি তাই কিছুক্ষণ সেখানে থেকে আমরা চলে আসলাম আপনারাও চাইলে সেই স্থানে গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here