ফাইভ-জি স্মার্টফোন আসছে ২০১৯ সালে, কী সুবিধা পাওয়া যাবে?

0
19

ইতোমধ্যে ফাইভ-জি প্রযুক্তি এসে গেছে। তবে দ্রুতগতির এই সুবিধা পেতে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় অবস্থান করতে হবে। শুধু তাই নয়, এজন্য কিছু আধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইসও থাকতে হবে আপনার।সোমবার স্যামসাং ও ভেরাইজন (ভিজেড) যৌথভাবে ফাইভ-জি স্মার্টফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী বছরের প্রথমভাগে এই প্রযুক্তির স্মার্টফোন বাজারে আনবে তারা। যদিও প্রতিষ্ঠান দুটি এখনও জানায়নি ঠিক কোন স্মার্টফোনটি ফাইভ-জি প্রযুক্তির হবে।তবে সাধারণত বসন্তে গ্যালাক্সি-এস সিরিজের নতুন স্মার্টফোন আনার ঘোষণা দেয় স্যামসাং। এ কারণে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সর্বশেষ গ্যালাক্সি-এস সিরিজের স্মার্টফোনটিই হয়তো ফাইভ-জি প্রযুক্তির হবে।স্যামসাংয়ের নাম না জানানো এই ফোনটি হয়তো প্রথম ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্মার্টফোন হবে না। কারণ এই প্রযুক্তি নিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা এখনও জানা যায়নি। তবে স্যামসাং ও ভেরাইজন বলছে, তাদের স্মার্টফোনটি হতে যাচ্ছে এই প্রযুক্তির প্রথম ফোনগুলোর একটি।বিশ্বে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হলো স্যামসাং এবং তাদের ফাইভ-জি স্মার্টফোন তৈরির সিদ্ধান্ত মানে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও পিছিয়ে থাকতে পারবে না। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্মার্টফোন তৈরি করতেই হবে।

এরপরও নেটওয়ার্ক প্রাপ্তির সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। কারণ, ভেরাইজনের ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক বর্তমানে অল্প কিছু জায়গায় আছে। এছাড়া অন্য যেসব প্রতিষ্ঠানের ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে তারাও খুব বেশি শহরে সেবা দিচ্ছে না। ২০১৯ এবং ২০২০ সালে হয়তো এ ধরনের নেটওয়ার্ক বিস্তৃতি লাভ করবে।এখন ফাইভ-জি খুব বেশি বিক্রি না হলেও ভবিষ্যতে এটা বেশ জনপ্রিয় হবে। ফোর-জি’র চেয়ে ফাইভ-জি’র গতি অনেক বেশি। গতির পরিমাণ কতটুকু বেশি তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে দেখা গেছে, ফোর-জি’র চেয়ে ফাইভ-জি’র গতি সর্বোচ্চ ১০০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে। লাখ লাখ মানুষ এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে গতি কিছুটা কমবে। তারপরও বাস্তব জীবনে ফোর-জি’র চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতি পাবেন ফাইভ-জি গ্রাহকরা।ফাইভ-জি’র আল্ট্রা-লো লেটেন্সি প্রযুক্তি খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে প্রচলিত নেটওয়ার্কের সাহায্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে এক সেকেন্ডের কয়েক ভাগের এক ভাগ লেগে যায়।

যদিও এই সময়ের পরিমাণ খুবই কম তারপরও ফাইভ-জিতে কোনও সময়ই লাগবে না।স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ফাইভ-জি দারুণ একটি প্রযুক্তি। তবে এর কার্যকারিতা ব্রডব্যান্ড গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে অনেক ফলপ্রসূ হবে।ভেরাইজন ইতোমধ্যে ফাইভ-জি হোম ইন্টারনেট সেবা দেয়া শুরু করেছে। ক্যাবল ইন্টারনেটের পরিবর্তে এই সেবা চালু করেছে তারা যেখানে বিনামূল্যে ইউটিউব টিভি সেবা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্রডব্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে শুরু করেছে এ ধরনের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।ফাইভ-জি’র লো লেটেন্সি প্রযুক্তি চালকবিহীন গাড়ির জন্যও খুব সহায়ক হবে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এই প্রযুক্তি। এছাড়া চিকিৎসাক্ষেত্রে বিশেষ করে টেলিমেডিসিন এবং রোবোটিক সার্জারির ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে ফাইভ-জি।এই সবকিছুর আগে নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে অবকাঠামো তৈরি করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here