বাকশিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাস স্মরণ : আলোচনা, সংগীত ও আবৃত্তি

0
159

২৭শে নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি, ঢাকায় সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলন প্রশিক্ষক বাক্শিল্পাচার্য অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস-এর বিশতম প্রয়াণ দিবসে নরেন বিশ্বাস স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাকশিল্পাচার্য নরেন বিশ্বাসের স্বকণ্ঠে ধারণকৃত আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠানের আরম্ভ হয়।

‘তুমি রবে নিরবে’ শীর্ষক গানটি নরেন বিশ্বাসকে নিবেদন করে পরিবেশন করেন জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিল্পী বুলবুল ইসলাম। কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ মীর বরকতের স্বাগত বক্তব্যের পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন তাঁর ছাত্র ও সহকর্মী (বর্তমানে) শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিক উল্লাহ খান। তিনি অধ্যাপক নরেন বিশ্বাসের আজীবন বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করার যে পরিক্রমা তা বর্ণনা করেন। বাংলা ভাষার প্রমিত উচ্চারিত রূপের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ, নিরলস কর্ম পরিচালনা, সকলকিছু ভুলে গিয়ে শুধু ভাষা নিয়েই তাঁর নিবিড় গবেষণা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, প্রতি শুক্রবারের কণ্ঠশীলনের ক্লাস, বিভিন্ন আবৃত্তি ও নাটকের দলের ক্লাস-এ তার কোনো বিরতি ছিলো না। একসময় তিনি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন।

প্রায় অন্ধ চোখে অন্যের হাত ধরে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলে যেতেনÑউচ্চারণের ক্লাস নিতে। দেশে আর কোন উচ্চারণ বিশারদ ছিল না? কাঠ-কাঠ ক্লাসটিকে মধুর করে শিক্ষার্থীর হৃদয় পর্যন্ত নেয়ার কাজটি হয়ত অনেকে করতে পারতেন না। সেটি পারতেন কেবল নরেন বিশ্বাস। তাঁর ক্লাসে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা এবং আনন্দ দুটোই গ্রহণ করতেন। এত সহজ-সরল-নির্মল নির্মাণের উচ্চারণ বিধান মুখে মুখে ফোটাতে আর কে পারে? এই বুদ্ধির জগতে সকলে যখন ইমারত-লালসায় উন্মুখ তখন কথা বলতে যেয়ে কার উচ্চারণের কী হল তার খবর কে রাখে? আর সেই সূত্রাবলীর পর্বত-অক্ষর জ্ঞানই বা অর্জনের কী মানেÑ যদি অন্য সবকিছু দিয়ে এই ভুল ঢেকে দেয়া যায়। সব প্রশ্ন উল্টোবাণে নিস্তব্ধ নিথর হয়ে পড়ে যখন নরেন বিশ্বাস তাঁর ঐশ্বর্যময় স্বরের দ্বার খুলতে আরম্ভ করতেন এক এক করে। এই বিস্ময়কর সৃষ্টির ফল এই সমাজ এখন বহন করছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাষ্ট্রিক সুরুচি প্রকাশের মাধ্যম এই ভাষাটির প্রকাশ আজ আন্তরিক হয়েছে এবং প্রেমময়Ñ যাঁদের কারণে, তাঁদেরই অন্যতম প্রধান অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কণ্ঠশীলন সভাপতি, প্রশিক্ষক, নির্দেশক, আবৃত্তিশিল্পী গোলাম সারোয়ার। সঞ্চালনায় শিরিন ইসলাম এবং সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন মোস্তফা কামাল।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রথিতযশা আবৃত্তিশিল্পীরা একক আবৃত্তি করেন। আবৃত্তিশিল্পীরা হলেন অধ্যাপক কাজী মদিনা, শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম, ডালিয়া আহমেদ, বেলায়েত হোসেন, মো. আহ্কাম উল্লাহ, ইকবাল খোরশেদ, রফিকুল ইসলাম, শিমুল মুস্তাফা, রেজীনা ওয়ালী লীনা, মাসকুর-এ সাত্তার কল্লোল, অলোক বসু, ড. শাহাদৎ হোসেন নিপু, কাজী মাহতাব সুমন, ফয়জুল আলম পাপ্পু, নাজমুল আহসান, আহসান উল্লাহ তমাল, ফয়জুল্লাহ সাঈদ, সোহেল আনোয়ার, শামসুজ্জোহা, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি, খালেক মল্লিক, মাসুদুজ্জামান, তামান্না তিথি, মাসুম আজিজুল বাশার, শহিদুল ইসলাম নাজু, সুপ্রভা সেবতি ও নাজমুল আহসান তরুণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here